Dark

Auto

Light

Dark

Auto

Light

শপআপ: ফিনটেক দুনিয়ায় বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা

মনে করুন আপনি বাস করছেন ২০০১ সালে, যেখানে ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে আপনাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, ট্যাক্সি কিংবা সিএনজি ভাড়া দিতে হয় নগদে, বিদেশে টাকা পাঠানোর জন্য পোহাতে হয় বাড়তি ঝামেলা। 

কিন্তু ২০২৩ সালে দাঁড়িয়ে আপনি কি দেখছেন? 

আশেপাশে যেকোনো এটিএম বুথ থেকে সহজেই টাকা তুলতে পারছেন। ঘরে বসে মুঠোফোনের সাহায্যে ব্যাংক থেকে ব্যাংকে ব্যালেন্স ট্রান্সফার করতে পারছেন, ক্যাশলেস ট্রানজেকশন করতে পারছেন রেস্তোরাঁ, শপিং মল থেকে শুরু করে  যাতায়াত ব্যবস্থায়ও!

ভেবে দেখেছেন কি টেকনোলজি কী করে আপনার দৈনন্দিন জীবনকে করে তুলেছে সহজ এবং ঝামেলা মুক্ত? ফাইন্যান্স সম্পর্কিত টেকনোলজির এই ব্যবহারকে সংক্ষেপে বলে ফিনটেক।

ফিনটেক কী? 

কেতাবি ভাষায় টেকনোলজি সাথে ফাইন্যান্সের মেলবন্ধনকে বলা হয় ‘ফিনটেক’ (ফাইনান্সিয়াল টেকনোলজি)। প্রযুক্তি ব্যবহার করে আর্থিক লেনদেনকে সহজ করাই এর উদ্দেশ্য। ব্যাংকিং লেনদেন, ক্রিপ্টোকারেন্সি, লোন এবং বিনিয়োগে দিন দিন এই শিল্পখাতটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আর্নস্ট এবং ইয়াং-এর গ্লোবাল ফিনটেক অ্যাডপশন ইনডেক্স অনুসারে ২০১৯ সালে ফিনটেক শিল্পের জনপ্রিয়তা ৬৪ শতাংশ যা ২০১৫ তে ছিল মাত্র ১৬ শতাংশ। বাংলাদেশেও মোবাইল ফাইনান্সিয়াল ব্যাংকিং, ব্যাংকিং বা স্টার্টআপ গুলোও এই খাতে ঝুঁকেছে। ২০১১ সালে বিকাশ এবং ডাচ বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু হয়, ২০১৫ সালে পাঠাও বাইক ও ফুড ডেলিভারি সেবা চালু সহ দেশের নানা খাতে এই শিল্পের অগ্রগতি দেখতে পাই আমরা। এছাড়া করোনাকালীন দুই বছরে বাংলাদেশে বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার দ্রুত প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এর ফলে ই-কমার্স ও এফ-কমার্সে বেশ কয়েকটি ফিনটেক কোম্পানি লক্ষ লক্ষ ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বর্তমানের বহুল আলোচিত ফুলস্টেক বিটুবি কমার্স প্ল্যাটফর্ম ‘শপআপ’।  

আজকের ভিডিওতে আমরা জানবো প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কী করে শপআপ বিটুবি কমার্স দেশের প্রান্তিক ও খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য চালু করেছে এক ব্যবসায়িক ইকোসিস্টেম যা ফিনটেকের দুনিয়ার দক্ষিণ এশিয়ার জন্য খুলে দিয়েছে বিনিয়োগের নতুন দুয়ার। 

শপআপ 

Image: Shopup website

মৃৎশিল্পের আঁতুড়ঘর পটুয়াখালীর মদনপুরে শপআপের কো-ফাউন্ডার আফীফ জামানের পৈতৃকবাড়ি। কিন্তু উন্নত ব্যবস্থাপনা ও দেশ জুড়ে দ্রুত ডেলিভারি অভাবে প্লাস্টিক কোম্পানিগুলোর কাছে যেন হার মানছিল এই শিল্প ও শিল্পের সাথে জড়িত সকলে। সেখান থেকেই আইডিয়া আসে শপআপের। গড়ে তুলতে চেয়েছেন এমন এক ব্যবস্থা যেখানে প্রান্তিক, ক্ষুদ্র এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা জটিলতা মুক্ত লেনদেন করতে পারবেন, লোন নিয়ে পারবেন, পারবেন দ্রুততম সময়ে গ্রাহকের কাছে পণ্য পৌঁছে দিতে, তাও নিজেদের মুঠোফোনটি ব্যবহারের মাধ্যমে।পাশাপাশি সাথে ক্ষুদ্র ব্যবসার স্কেলেবিলিটি বৃদ্ধি এবং অন্যান্য টেকনিক্যাল সুবিধা দেওয়া নিয়েও কাজ করার চিন্তা ভাবনা শুরু করেন। আর সেই চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দিতেই শপআপের পথচলা। এই পথচলায় শপআপ তাদের তিনটি সার্ভিসের সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেয়। যেগুলো রেডেক্স, মোকাম এবং বাকি নামে আমরা সকলে চিনি। 

বাংলাদেশে বর্তমানে জনপ্রিয় লজিস্টিকস ডেলিভারি সার্ভিস রেডেক্সের নাম শোনেনি এমন মানুষ পাওয়া মুশকিল। করোনাকালীন এবং করোনা পরবর্তী সময়েও রেডেক্স সারাদেশে দ্রুততম সময়ে পণ্য পৌঁছে দিয়ে এসএমই, ই-কমার্স, এফ-কমার্সের উদ্যোক্তাদের পণ্য ডেলিভারি সংক্রান্ত জটিলতা থেকে দিয়েছে মুক্তি। মোকাম হল বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিটুবি কমার্স প্ল্যাটফর্ম যা খুচরা বাজারে পণ্য বিতরণে অদক্ষতা সমাধানের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।  এই প্রতিষ্ঠান সারাদেশে পঞ্চাশটিরও বেশি জেলায় খুচরা ব্যবসায়ী ও সাপ্লায়ারদের মধ্যকার সেতু হিসেবে কাজ করে। সাপ্লায়াররা মোকামের সুবিশাল ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের ব্যবহার করে দ্রুততম সময়ে সারা দেশে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছাতে পারে। দুই বছরেরও কম সময়ে বাংলাদেশ রিটেইল অ্যাওয়ার্ড ২০২১ সালে দেশ সেরা বিটুবি কমার্স প্ল্যাটফর্ম খেতাব অর্জন করেছে মোকাম। শপআপের আরেকটি সার্ভিস, বাকি একটি ডিজিটাল এমবেডেড ফাইন্যান্সিং সিস্টেম যা হাজার হাজার ছোট ব্যবসায়ীকে ডিজিটাল ক্রেডিট সরবরাহ করার মাধ্যমে প্রথাগত অর্থায়নের ঝামেলা থেকে মুক্তি দেয়। 

বর্তমানে ঢাকার পাশাপাশি ভারতের বেঙ্গালুরু থেকেও কার্যক্রম পরিচালনা করছে শপআপ। তাদের মোট কর্মী সংখ্যা ৭০২ জন এবং কোম্পানিতে মোট ১৩ জন ইনভেস্টর রয়েছে। কোম্পানিটির ভ্যালুয়েশন বিষয়ক সকল তথ্য জানা না গেলেও, বেশ কিছু ধাপে শপআপ কোম্পানিতে বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৩০০ কোটি টাকার ঋণ সুবিধা পায় শপআপ। এর মাঝে ২০০ কোটি টাকার ঋণ আসে লেন্ডেবল থেকে। লেন্ডেবল হলো এমন কোম্পানি যারা ফিনটেক কোম্পানিগুলোকে ঋণ সুবিধা দিয়ে থাকে। আর প্রথম কোন দক্ষিণ এশিয় কোম্পানি হিসেবে শপআপে ঋণ দিচ্ছে লেন্ডেবল। বাকি ১০০ কোটি টাকা আসছে সিটি ব্যাংক থেকে। এটিও সিটি ব্যাংকের জন্য প্রথম কোন লোকাল কোম্পানিকে ঋণ সুবিধা দেয়া। এছাড়াও ভালার ভেনচারস, ভিয়ন ভেনচার, টাইগার গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট, ফ্লোরিশ ভেনচারস, ওমিদ্যার নেটওয়ার্ক, লোন্সড্যাল ক্যাপিটাল এবং প্রসুস ভেনচারস এই গ্লোবাল প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন রাউন্ডে শপআপে ইনভেস্ট করে। এগুলো মাঝে কেবল টাইগার গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট, ভালার ভেনচারস এবং লেন্ডেবল শপআপের লিড ইনভেস্টর।

শপআপের কার্যক্রম নিয়ে আপনার কী মতামত? তাদের কোন সার্ভিসের সাথে কি আপনার আগে পরিচয় ছিল?

Leave A Comment